দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের দিল্লিতে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাদি মারা গেছেন।
শনিবার ৮৫ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে মারা যান সাবিত্রীবাই শঙ্কর দীপকে। এদিকে, দিল্লিতে আটক থাকা দীপকে মুক্তি দেওয়া হবে কি না, কিংবা তিনি দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দীপকের বাবা ভগবান ও মা অনিতা মহারাষ্ট্রের গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তবে দীপকে তার দাদির মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পর সেটির ভেতর থেকেই দীপককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। মুম্বাই থেকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সঙ্গে দিল্লিতে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদনপত্র ৬ নম্বরে পরিবর্তনের প্রতিবাদে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, এসআইআরের আওতায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
জন্তর মন্তর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে প্রতিবাদ জানাতে পুলিশের অনুমতি কেন প্রয়োজন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দীপক। তার বক্তব্য ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করা সাংবিধানিক অধিকার।
বিমানের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দীপককে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমি এখানে গ্রেপ্তার হতেই এসেছি। এগিয়ে আসুন, আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’ তার আটকের নিন্দা জানিয়ে সিজেপি নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।
শনিবার দীপকের বাবা ভগবান পুলিশকে প্রশ্ন করেন, কোন আইনে তার ছেলেকে আটক রাখা হয়েছে, তা জানাতে হবে। তার মা অনিতা বলেন, পরিবার দীপকের পাশে রয়েছে এবং তার কাজকে সমর্থন করে।
এর এক দিন আগে মুম্বাইয়ে লোকসত্তা আয়োজিত ‘লোকসংবাদ’ অনুষ্ঠানে নিজের আন্দোলনের কারণে পরিবারের ওপর পড়া প্রভাবের কথা বলেছিলেন দীপক। লোকসত্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গোষ্ঠীর মারাঠি ভাষার সংবাদপত্র।
দীপক বলেন, জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় তার মা-বাবা দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তবে সহানুভূতি পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি বিষয়টি কোথাও প্রকাশ করেননি। পরিবারের সদস্যদের দেখতে যেতে পারেননি, কারণ সেখান থেকে চলে গেলে তাকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের মুখে পড়তে হতো।
তিনি বলেন, ‘আমার চেয়ে আমার পরিবার বেশি ভুগেছে। আজও আমি বাইরে বের হলে মায়ের চোখে ভয় দেখি, আমি ফিরতে পারব কি না। সম্প্রতি বেঙ্গালুরু যাওয়ার সময় মা কাঁদছিলেন। আজ এটাই মূল্য দিতে হয়।’
তবে দীপকের ভাষ্য, মানুষ এখন ভয়ের মধ্যে বাঁচতে বাঁচতে ক্লান্ত। গত ২০ জুলাই বিক্ষোভে শিশুরা মারধরের শিকার হয়ে হাড় ভাঙার মতো আঘাত পাওয়ার পরও ২১ জুলাই তারা আবার সেখানে ফিরে এসে বসেছিল। তার মতে, মানুষের মধ্যে থেকে ভয় কেটে গেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/অ